হাঁসের মাংস এবং অনিক দাস বিষয়ক

Posted by Rabiul Awal on December 29, 2016

ম্যালাদিন পর হাসের মাংস দিয়া ভাত খাইছি। হাসের মাংস দিয়া ভাত খাইলে অনিক দাসের কথা মনে পড়ে। অনিক দাসের কথা মনে পড়লে আমি এবং আমরা ভাবালুতায় খাবি খাই। মনে হয় অনেক বদলাইয়া গেছি আমরা। খানিক বিষাদগ্রস্ত হই এবং মনে পড়ে মেঘদল। শিউলি ফুল দেখতে কেমন সেটা ভাবি। বাইনারি ট্রি আঁকি বইসা বইসা। আরও ভাবি অনিক দাস ক্যান আজকাল পাঞ্জাবী পরে না। পাঞ্জাবী পরা অনিক দাসের প্রতি আমি অবসেসড কিনা এও ভাবি। গেরুয়া রঙা পাঞ্জাবী পরা অনিক দাসকে খুব মনে পড়ে। বিষাদগ্রস্ত সন্ধ্যেতে মদ গিললে এক বুক ভার করা হাহাকার ভিড় করে। হয়ত অমন এক হাহাকার আর আকুলিবিকুলিতে ভেতরটা বিপর্যস্ত হয়ে উঠে।

যাহোক মায়া হোটেল আগের মতন নাই। গরুর কলিজা আর আবারো হাসের মাংসের দিনগুলো টের পাই। মাস্টারপাড়ার অই মাস্টার লোকটারে মিস করি। আরও মিস করি কল্যাণ বর্দ্ধনরে। জীবন কতটা কঠিন আর পৃথিবী কতখানি বাণিজ্যিক হয়ে উঠছে এ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক মন্তব্যে নিরুদার লগে একমত হই, আবার হইনা। ভাবি আমাদের খেতে হয়, পরতে হয়। বাসা ভাড়া ঠিকঠাকমতন না দিতে পারলে কেউ কেউ মনে মনে মাদারচোদ কইয়া গাইল দিবারে পারে অথচ আমরা ঘুম থেকে উঠে একই বেসিনে দাত মাজতে যাই। এসবই জীবন কিনা তা নিয়া চিন্তিত হই।

মাঝে মাঝে খটকা লেগে যায়। ভাবি যে মিছিল ছুইটা যাইতাছে, তার পেছনে যে হাজার হাজার লোক, স্লোগান দেওয়া লোকটা, ব্যানারের সামনের লোকটা কি বুঝবার পারে যে এই যাত্রা অর্থহীন। মুহুর্তেই শত শত লোক ব্ল্যাক আউটে চলে যাবে। আমাদের জীবন কতখানি ছোট এ নিয়ে ভাবি। ভাবি বিশ্ববিদ্যালয় সকল শিক্ষক অঞ্জন দত্তের গান শুনে নাই। এ নিয়ে দুখ পাইতে নাই। ভাবি তনয় মজুমদাররে মিস করা হয়না অনিকদিন। ভাবতে ভাবতে মায়ের কাছে যাই, বাপের কাছে যাই, ভাইবইনের লগে দেখা দেই এবং স্টিকি নোটসে লেইখা রাখি – বাবাকে কল করতে হবে। তারপর একটা সময় আসর ভাল্লাগে না, মজমাঘরে দম বন্ধ হয়ে আসে। এক দৌড়ে ফিরে আসতে ইচ্ছে করে ঘরের কোণায় যেখানটায় চে গুয়েভারা আমার দিকে নির্ভার তাকায়ে থাকেন সারাবেলা। ঘরে ফিরি, পড়তে বসি, লিখি, ভাবি, সক্রেটিস বনে যাই।

চাইরপাশের মানুষগুলানরে খুব বোকচোদা মনে হয়। কম্পিউটার প্রকৌশলের জনৈক ছাত্রকে ভাবি। তারপর ভাবনাটা রেখে দেই ড্রয়ারে, ভবিষ্যত প্রকৌশলীকে আর ভাবিনা। ইংরেজি সাহিত্য পড়ুয়া যুবকটি মন দিয়া কবিতা করে, ফেসবুক চালায় আর ভাবে। কারণ শাহদুজ্জামান কইছেন, ভাবলে মানুষরে সুন্দরে দেখায়। বাইনারি ট্রি ব্যাপারটা সহজ অথচ আমরা বুঝিনা। আমাদের গণিত আর দর্শন পড়তে হবে বেশি বেশি। আর বাড়ির উঠোনে বকুল ফুলের চারা লাগাইতে হবে আর জানালার কোণে শিউলি ফুল। শিউলি ফুল কি এইটা ভাবতে বসি আবারো এবং বারাক ওবামার গল্প শুনি।